Friday, April 20, 2012

জীবন গঠনে প্রয়োজনীয় একটা গল্প ।

 আমি রিয়াজ । আসলেই যারা গ্রেট তারা অন্য রকমের চিন্তা দ্বারার মানুষ হন । তাদের একজন স্টিভ জবস ।


আশাকরি সকলে আল্লাহ্‌র অশেষ কৃপায় সুস্থ থেকে বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত আছেন। আমি আজ একটা লেখা শেয়ার করবো সবার সাথে। এই লেখাটি একটি বক্তব্যের লেখ্যরূপ যে বক্তব্যটি উপস্থাপিত হয়েছিলো বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির ছাত্রদের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে। বক্তব্যটি বেশ পুরোনো। তবে আমার জীবনে শোনা সবচাইতে মুগ্ধকর আর উৎসাহমূলক বক্তব্য। তাই সবার সাথে শেয়ার করে নিতে চাইছি। এই বক্তব্য দিয়েছিলেন স্টিভ জবস। যিনি অ্যাপল এবং পিক্সার অ্যানিমেশন নামক দুইটি সেরা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও। বক্তব্য রেখেছিলেন ২০০৫ সালের ১২ জুন। লেখাটির ইংরেজি রূপ স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে নেয়া।
বক্তার জীবনের মতন এত রকম কঠিন সময়, কষ্টকর সময় আর বৈচিত্র্য আমাদের সবার জীবনে থাকেনা। কিন্তু আমাদের জীবনে থাকে অনেক রকম ঘাত-প্রতিঘাত আর সফলতার আকাঙ্ক্ষা। আর তাই সবারই এই লেখাটা পড়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করি, ভালো লাগবে আর অনুপ্রাণিত হবেন সেই নিশ্চয়তা দিচ্ছি ।

"আমার প্রথম গল্পটি কিছু বিচ্ছিন্ন বিন্দুকে এক সুতায় বেঁধে ফেলার গল্প"

steve-jobs-ceo-apple-next
স্টিভ জবস-- অ্যাপেল কম্পিউটারের প্রতিষ্ঠাতা
ভর্তি হওয়ার ছয় মাসের মাথাতেই রিড কলেজে পড়ালেখায় ক্ষ্যান্ত দিই আমি। যদিও এর পরও সেখানে আমি প্রায় দেড় বছর ছিলাম, কিন্তু সেটাকে পড়ালেখা নিয়ে থাকা বলে না। আচ্ছা, কেন আমি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়লাম?
এর শুরু আসলে আমার জন্মেরও আগে। আমার আসল মা ছিলেন একজন অবিবাহিত তরুণী। তিনি তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন। আমার ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, আমাকে এমন কারও কাছে দত্তক দেবেন, যাঁদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি আছে। সিদ্ধান্ত হলো এক আইনজীবী ও তাঁর স্ত্রী আমাকে দত্তক নেবেন। কিন্তু একদম শেষ মুহূর্তে দেখা গেল, ওই দম্পতির কারোরই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি নেই, বিশেষ করে আইনজীবী ভদ্রলোক কখনো হাইস্কুলের গণ্ডিই পেরোতে পারেননি। আমার মা তো আর কাগজপত্রে সই করতে রাজি হন না। অনেক ঘটনার পর ওই দম্পতি প্রতিজ্ঞা করলেন, তাঁরা আমাকে অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াবেন, তখন মায়ের মন একটু গললো। তিনি কাগজে সই করে আমাকে তাঁদের হাতে তুলে দিলেন।
এর ১৭ বছর পরের ঘটনা। তাঁরা আমাকে সত্যি সত্যিই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়েছিলেন। কিন্তু আমি বোকার মতো বেছে নিয়েছিলাম এমন এক বিশ্ববিদ্যালয়, যার পড়ালেখার খরচ প্রায় তোমাদের এই স্ট্যানফোর্ডের সমান। আমার দরিদ্র মা-বাবার সব জমানো টাকা আমার পড়ালেখার পেছনে চলে যাচ্ছিল। ছয় মাসের মাথাতেই আমি বুঝলাম, এর কোনো মানে হয় না। জীবনে কী করতে চাই, সে ব্যাপারে আমার কোনো ধারণা নেই এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ালেখা এ ব্যাপারে কীভাবে সাহায্য করবে, সেটাও বুঝতে পারছিলাম না। অথচ মা-বাবার সারা জীবনের জমানো সব টাকা এই অর্থহীন পড়ালেখার পেছনে আমি ব্যয় করছিলাম। তাই আমি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলাম এবং মনে হলো যে এবার সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।
সিদ্ধান্তটা ভয়াবহ মনে হলেও এখন আমি যখন পেছন ফিরে তাকাই, তখন মনে হয়, এটা আমার জীবনের অন্যতম সেরা সিদ্ধান্ত ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমি ডিগ্রির জন্য দরকারী কিন্তু আমার অপছন্দের কোর্সগুলো নেওয়া বন্ধ করে দিতে পারলাম, কোনো বাধ্যবাধকতা থাকল না, আমি আমার আগ্রহের বিষয়গুলো খুঁজে নিতে লাগলাম।
পুরো ব্যাপারটিকে কোনোভাবেই রোমান্টিক বলা যাবে না। কারণ তখন আমার কোনো রুম ছিল না, বন্ধুদের রুমের ফ্লোরে ঘুমোতাম। ব্যবহৃত কোকের বোতল ফেরত দিয়ে আমি পাঁচ সেন্ট করে কামাই করতাম, যেটা দিয়ে খাবার কিনতাম। প্রতি রোববার রাতে আমি সাত মাইল হেঁটে হরেকৃষ্ণ মন্দিরে যেতাম শুধু একবেলা ভালো খাবার খাওয়ার জন্য। এটা আমার খুবই ভালো লাগত। এই ভালো লাগাটাই ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
রিড কলেজে সম্ভবত দেশে সেরা ক্যালিগ্রাফি শেখানো হতো সে সময়। ক্যাম্পাসে সাঁটা পোস্টারসহ সবকিছুই করা হতো চমৎকার হাতের লেখা দিয়ে। আমি যেহেতু আর স্বাভাবিক পড়ালেখার মাঝে ছিলাম না, তাই যে কোনো কোর্সই চাইলে নিতে পারতাম। আমি ক্যালিগ্রাফি কোর্সে ভর্তি হয়ে গেলাম। সেরিফ ও স্যান সেরিফের বিভিন্ন অক্ষরের মধ্যে স্পেস কমানো-বাড়ানো শিখলাম, ভালো টাইপোগ্রাফি কীভাবে করতে হয়, সেটা শিখলাম। ব্যাপারটা ছিল সত্যিই দারুণ সুন্দর, ঐতিহাসিক, বিজ্ঞানের ধরাছোঁয়ার বাইরের একটা আর্ট। আমি এর মধ্যেই মজা খুঁজে পেলাম।
এ ক্যালিগ্রাফি জিনিসটা কোনো দিন বাস্তবজীবনে আমার কাজে আসবে—এটা কখনো ভাবিনি। কিন্তু ১০ বছর পর আমরা যখন আমাদের প্রথম ম্যাকিনটশ কম্পিউটার (আমরা যাকে ম্যাক বলে চিনি) ডিজাইন করি, তখন এর পুরো ব্যাপারটাই আমার কাজে লাগল। ওটাই ছিল প্রথম কম্পিউটার, যেটায় চমৎকার টাইপোগ্রাফির ব্যবহার ছিল। আমি যদি সেই ক্যালিগ্রাফি কোর্সটা না নিতাম, তাহলে ম্যাক কম্পিউটারে কখনো নানা রকম অক্ষর (টাইপফেইস) এবং আনুপাতিক দূরত্বের অক্ষর থাকত না। আর যেহেতু উইন্ডোজ ম্যাকের এই ফন্ট সরাসরি নকল করেছে, তাই বলা যায়, কোনো কম্পিউটারেই এ ধরনের ফন্ট থাকত না। আমি যদি বিশ্ববিদ্যালয় না ছাড়তাম, তাহলে আমি কখনোই ওই ক্যালিগ্রাফি কোর্সে ভর্তি হতাম না এবং কম্পিউটারে হয়তো কখনো এত সুন্দর ফন্ট থাকত না। অবশ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা অবস্থায় এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে এক সুতায় বাঁধা অসম্ভব ছিল, কিন্তু ১০ বছর পর পেছনে তাকালে এটা ছিল খুবই পরিষ্কার একটা বিষয়।
আবার তুমি কখনোই ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলোকে এক সুতায় বাঁধতে পারবে না। এটা কেবল পেছনে তাকিয়েই সম্ভব। অতএব, তোমাকে বিশ্বাস করতেই হবে, বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলো একসময় ভবিষ্যতে গিয়ে একটা অর্থবহ জিনিসে পরিণত হবেই। তোমার ভাগ্য, জীবন, কর্ম, কিছু না কিছু একটার ওপর তোমাকে বিশ্বাস রাখতেই হবে। এটা কখনোই আমাকে ব্যর্থ করেনি, বরং উল্টোটা করেছে।

"আমার দ্বিতীয় গল্পটি ভালোবাসা আর হারানোর গল্প"

আমি খুব ভাগ্যবান ছিলাম। কারণ, জীবনের শুরুতেই আমি যা করতে ভালোবাসি, তা খুঁজে পেয়েছিলাম।
আমার বয়স যখন ২০, তখন আমি আর ওজ দুজনে মিলে আমাদের বাড়ির গ্যারেজে অ্যাপল কোম্পানি শুরু করেছিলাম। আমরা পরিশ্রম করেছিলাম ফাটাফাটি, তাই তো দুজনের সেই কোম্পানি ১০ বছরের মাথায় চার হাজার কর্মচারীর দুই বিলিয়ন ডলারের কোম্পানিতে পরিণত হয়। আমার বয়স যখন ৩০, তখন আমরা আমাদের সেরা কম্পিউটার ম্যাকিন্টোস বাজারে ছেড়েছি। এর ঠিক এক বছর পরের ঘটনা। আমি অ্যাপল থেকে চাকরিচ্যুত হই। যে কোম্পানির মালিক তুমি নিজে, সেই কোম্পানি থেকে কীভাবে তোমার চাকরি চলে যায়? মজার হলেও আমার ক্ষেত্রে সেটা ঘটেছিল। প্রতিষ্ঠান হিসেবে অ্যাপল যখন বড় হতে লাগল, তখন কোম্পানিটি ভালোভাবে চালানোর জন্য এমন একজনকে নিয়োগ দিলাম, যে আমার সঙ্গে কাজ করবে। এক বছর ঠিকঠাকমতো কাটলেও এর পর থেকে তার সঙ্গে আমার মতের অমিল হতে শুরু করল। প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ তার পক্ষ নিলে আমি অ্যাপল থেকে বহিষ্কৃত হলাম। এবং সেটা ছিল খুব ঢাকঢোল পিটিয়েই। তোমরা বুঝতেই পারছ, ঘটনাটা আমার জন্য কেমন হতাশাজনক ছিল। আমি সারা জীবন যে জিনিসটার পেছনে খেটেছি, সেটাই আর আমার রইল না।
সত্যিই এর পরের কয়েক মাস আমি প্রচন্ড দিশেহারা অবস্থায় ছিলাম। আমি ডেভিড প্যাকার্ড ও বব নয়েসের সঙ্গে দেখা করে পুরো ব্যাপারটার জন্য ক্ষমা চাইলাম। আমাকে তখন সবাই চিনত, তাই এই চাপ আমি আর নিতে পারছিলাম না। মনে হতো, ভ্যালি ছেড়ে পালিয়ে যাই। কিন্তু সেই সঙ্গে আরেকটা জিনিস আমি বুঝতে পারলাম, আমি যা করছিলাম, সেটাই আমি সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি। চাকরিচ্যুতির কারণে কাজের প্রতি আমার ভালোবাসা এক বিন্দুও কমেনি। তাই আমি আবার একেবারে গোড়া থেকে শুরু করার সিদ্ধান্ত নিলাম।
প্রথমে মনে না হলেও পরে আবিষ্কার করলাম, অ্যাপল থেকে চাকরিচ্যুতিটা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে ভালো ঘটনা। আমি অনেকটা নির্ভার হয়ে গেলাম, কোনো চাপ নেই, সফল হওয়ার জন্য বাড়াবাড়ি রকমের কৌশল নিয়ে ভাবার অবকাশ নেই। আমি প্রবেশ করলাম আমার জীবনের সবচেয়ে সৃজনশীল অংশে।
পরবর্তী পাঁচ বছরে নেক্সট ও পিক্সার নামের দুটো কোম্পানি শুরু করি আমি, আর প্রেমে পড়ি এক অসাধারণ মেয়ের, যাকে পরে বিয়ে করি। পিক্সার থেকে আমরা পৃথিবীর প্রথম কম্পিউটার অ্যানিমেশন ছবি টয় স্টোরি তৈরি করি। আর এখন তো পিক্সারকে সবাই চেনে। পৃথিবীর সবচেয়ে সফল অ্যানিমেশন স্টুডিও। এরপর ঘটে কিছু চমকপ্রদ ঘটনা। অ্যাপল নেক্সটকে কিনে নেয় এবং আমি অ্যাপলে ফিরে আসি। আর লরেনের সঙ্গে চলতে থাকে আমার চমত্কার সংসার জীবন।
আমি মোটামুটি নিশ্চিত, এগুলোর কিছুই ঘটত না, যদি না অ্যাপল থেকে আমি চাকরিচ্যুত হতাম।
এটা আমার জন্য খুব বাজে আর তেতো হলেও দরকারি একটা ওষুধ ছিল। কখনো কখনো জীবন তোমাকে ইটপাটকেল মারবে, কিন্তু বিশ্বাস হারিয়ো না। আমি নিশ্চিত, যে জিনিসটা আমাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল সেটা হচ্ছে, আমি যে কাজটি করছিলাম, সেটাকে আমি অনেক ভালোবাসতাম।
তোমাকে অবশ্যই তোমার ভালোবাসার কাজটি খুঁজে পেতে হবে, ঠিক যেভাবে তুমি তোমার ভালোবাসার মানুষটিকে খুঁজে বের করো। তোমার জীবনের একটা বিরাট অংশজুড়ে থাকবে তোমার কাজ, তাই জীবন নিয়ে সত্যিকারের সন্তুষ্ট হওয়ার একমাত্র উপায় হচ্ছে এমন কাজ করা, যে কাজ সম্পর্কে তোমার ধারণা, এটা একটা অসাধারণ কাজ। আর কোনো কাজ তখনই অসাধারণ মনে হবে, যখন তুমি তোমার কাজটিকে ভালোবাসবে। যদি এখনো তোমার ভালোবাসার কাজ খুঁজে না পাও, তাহলে খুঁজতে থাকো। অন্য কোথাও স্থায়ী হয়ে যেয়ো না। তোমার মনই তোমাকে বলে দেবে, যখন তুমি তোমার ভালোবাসার কাজটি খুঁজে পাবে। যেকোনো ভালো সম্পর্কের মতোই, তোমার কাজটি যতই তুমি করতে থাকবে, সময় যাবে, ততই ভালো লাগবে। সুতরাং খুঁজতে থাকো, যতক্ষণ না ভালোবাসার কাজটি পাচ্ছ। অন্য কোনোখানে নিজেকে স্থায়ী করে ফেলো না।

"আমার শেষ গল্পটির বিষয় মৃত্যু"

আমার বয়স যখন ১৭ ছিল, তখন আমি একটা উদ্ধৃতি পড়েছিলাম—‘তুমি যদি প্রতিটি দিনকেই তোমার জীবনের শেষ দিন ভাব, তাহলে একদিন তুমি সত্যি সত্যিই সঠিক হবে।’ এ কথাটা আমার মনে গভীরভাবে রেখাপাত করেছিল এবং সেই থেকে গত ৩৩ বছর আমি প্রতিদিন সকালে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে জিজ্ঞেস করি—আজ যদি আমার জীবনের শেষ দিন হতো, তাহলে আমি কি যা যা করতে যাচ্ছি, আজ তা-ই করতাম, নাকি অন্য কিছু করতাম? যখনই এ প্রশ্নের উত্তর একসঙ্গে কয়েক দিন ‘না’ হতো, আমি বুঝতাম, আমার কিছু একটা পরিবর্তন করতে হবে।
পৃথিবী ছেড়ে আমাকে একদিন চলে যেতে হবে, এ জিনিসটা মাথায় রাখার ব্যাপারটাই জীবনে আমাকে বড় বড় সব সিদ্ধান্ত নিতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছে। কারণ, প্রায় সবকিছুই যেমন, সব অতি প্রত্যাশা, সব গর্ব, সব লাজলজ্জা আর ব্যর্থতার গ্লানি—মৃত্যুর মুখে হঠাৎ করে সব নেই হয়ে যায়, টিকে থাকে শুধু সেটাই, যা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ। তোমার কিছু হারানোর আছে—আমার জানা মতে, এ চিন্তা দূর করার সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে, সব সময় মনে রাখা যে একদিন তুমি মরে যাবে। তুমি খোলা বইয়ের মতো উন্মুক্ত হয়েই আছ। তাহলে কেন তুমি সেই পথে যাবে না, যে পথে তোমার মন যেতে বলছে তোমাকে?
প্রায় এক বছর আগের এক সকালে আমার ক্যানসার ধরা পড়ে। ডাক্তারদের ভাষ্যমতে, এর থেকে মুক্তির কোনো উপায় নেই আমার। প্রায় নিশ্চিতভাবে অনারোগ্য এই ক্যানসারের কারণে তাঁরা আমার আয়ু বেঁধে দিলেন তিন থেকে ছয় মাস। উপদেশ দিলেন বাসায় ফিরে যেতে। যেটার সোজাসাপটা মানে দাঁড়ায়, বাসায় গিয়ে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হও। এমনভাবে জিনিসটাকে ম্যানেজ করো, যাতে পরিবারের সবার জন্য বিষয়টা যথাসম্ভব কম বেদনাদায়ক হয়।
সারা দিন পর সন্ধ্যায় আমার একটা বায়োপসি হলো। তাঁরা আমার গলার ভেতর দিয়ে একটা এন্ডোস্কোপ নামিয়ে দিয়ে পেটের ভেতর দিয়ে গিয়ে টিউমার থেকে সুঁই দিয়ে কিছু কোষ নিয়ে এলেন। আমাকে অজ্ঞান করে রেখেছিলেন, তাই কিছুই দেখিনি। কিন্তু আমার স্ত্রী পরে আমাকে বলেছিল, চিকিৎসকেরা যখন এন্ডোস্কোপি থেকে পাওয়া কোষগুলো মাইক্রোস্কোপের নিচে রেখে পরীক্ষা করা শুরু করলেন, তখন তাঁরা কাঁদতে শুরু করেছিলেন। কারণ, আমার ক্যানসার এখন যে অবস্থায় আছে, তা সার্জারির মাধ্যমে চিকিৎসা সম্ভব। আমার সেই সার্জারি হয়েছিল এবং দেখতেই পাচ্ছ, এখন আমি সুস্থ।
কেউই মরতে চায় না। এমনকি যারা স্বর্গে যেতে চায়, তারাও সেখানে যাওয়ার জন্য তাড়াতাড়ি মরতে চায় না। কিন্তু মৃত্যুই আমাদের গন্তব্য। এখনো পর্যন্ত কেউ এটা থেকে বাঁচতে পারেনি। এমনই তো হওয়ার কথা। কারণ, মৃত্যুই সম্ভবত জীবনের অন্যতম প্রধান আবিষ্কার। এটা জীবনের পরিবর্তনের এজেন্ট। মৃত্যু পুরোনোকে ঝেড়ে ফেলে ‘এসেছে নতুন শিশু’র জন্য জায়গা করে দেয়। এই মুহূর্তে তোমরা হচ্ছ নতুন, কিন্তু খুব বেশি দিন দূরে নয়, যেদিন তোমরা পুরোনো হয়ে যাবে এবং তোমাদের ঝেড়ে ফেলে দেওয়া হবে। আমার অতি নাটুকেপনার জন্য দুঃখিত, কিন্তু এটাই আসল সত্য।
তোমাদের সময় সীমিত। কাজেই কোনো মতবাদের ফাঁদে পড়ে, অর্থাৎ অন্য কারও চিন্তাভাবনার ফাঁদে পড়ে অন্য কারও জীবনযাপন করে নিজের সময় নষ্ট করো না।
যাদের মতবাদে তুমি নিজের জীবন চালাতে চাচ্ছ, তারা কিন্তু অন্যের মতবাদে চলেনি, নিজের মতবাদেই চলেছে। তোমার নিজের ভেতরের কণ্ঠকে অন্যদের শেকলে শৃঙ্খলিত করো না। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো, নিজের মন আর ইনটুইশনের মাধ্যমে নিজেকে চালানোর সাহস রাখবে। ওরা যেভাবেই হোক, এরই মধ্যে জেনে ফেলেছে, তুমি আসলে কী হতে চাও। এ ছাড়া আর যা বাকি থাকে, সবই খুব গৌণ ব্যাপার।
আমি যখন তরুণ ছিলাম, তখন দি হোল আর্থ ক্যাটালগ নামের অসাধারণ একটা পত্রিকা প্রকাশিত হতো; যেটা কিনা ছিল আমাদের প্রজন্মের বাইবেল। এটা বের করতেন স্টুয়ার্ড ব্র্যান্ড নামের এক ভদ্রলোক। তিনি তাঁর কবিত্ব দিয়ে পত্রিকাটিকে জীবন্ত করে তুলেছিলেন।
স্টুয়ার্ট ও তাঁর টিম পত্রিকাটির অনেক সংখ্যা বের করেছিল। সত্তরের দশকের মাঝামাঝি সময়ে, আমার বয়স যখন ঠিক তোমাদের বয়সের কাছাকাছি, তখন পত্রিকাটির শেষ সংখ্যা প্রকাশিত হয়। বিদায়ী সেই সংখ্যার শেষ পাতায় ছিল একটা ভোরের ছবি। তার নিচে লেখা ছিল— ক্ষুধার্ত থেকো, বোকা থেকো । এটা ছিল তাদের বিদায়কালের বার্তা– “ক্ষুধার্ত থেকো, বোকা থেকো”।
আমি নিজেও সব সময় এটা মেনে চলার চেষ্টা করেছি। আজ তোমরা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি ছেড়ে আরও বড়, নতুন একটা জীবনে প্রবেশ করতে যাচ্ছ, আমি তোমাদেরও এটা মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছি।
Stay Hungry. Stay Foolish.
ক্ষুধার্ত থেকো, বোকা থেকো

Tuesday, April 17, 2012

জেনে নিন আপনার মোবাইল সেট এর কোয়ালিটি(NOKIA)

বাজারে নকিয়ার সেটই সবচেয়ে জনপ্রিয়, আর এই জনপ্রিয়তাকে পুজি করে এক শ্রেনীর অসাধু আমদানীকারক নিম্নমানের নকিয়া সেট এনে আপনাকে প্রতারিত করছে। আসুন দেখি কিভাবে আপনার সেট এর কোয়ালিটি ভাল মন্দ যাচাই করবেন।
*#06# চাপুন। এতে করে আপনার মোবাইল এর ১৫ ডিজিট এর ( IMEI ) আই.এম.ই.আই নম্বার পাবেন।
নোট: আই.এম.ই.আই ( IMEI ) = ইন্টারন্যাশনাশ মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি।
এখন উক্ত সিরিয়াল নম্বার হতে সাত ( ৭ ) এবং আট ( ৮) নং ডিজিট এর মান হতে আপনার সেট এর মান/ কোয়ালিটি জানতে পারবেন।
http://forum.projanmo.com/uploads/2008/09/859_imechart.jpg
  • সাত এবং আট নং ডিজিট যদি 02 বা 20 হয় , এটা এর এসেম্বলিং আমিরাত ( যাকে আমরা ডুবাই বলে ডাকি) এবং এর কোয়ালিটি খুবই খারাপ। [ অধিকাংশ সেটই ডুবাই/ আমিরাতের এসেম্বলিং করা, যা আমার চায়না হিসাবে জানি ]
  • সাত এবং আট নং ডিজিট যদি 08 বা 80 হয় ,মানে হল এর ম্যানুফেকচারিং দেশ র্জামানী এবং এর কোয়ালিটি মোটামুটি মানের।
  • সাত এবং আট নং ডিজিট যদি 01 বা 10 হয় ,মানে হল এর ম্যানুফেকচারিং দেশ ফিন্সল্যান্ড এবং এটি খুবই ভাল কোয়ালিটির।
  • সাত এবং আট নং ডিজিট যদি 00 হয় ,মানে হল এটা অরজিনাল ফ্যাক্টরী হতে উৎপাদিত (বানান ঠিক নাই) আর এটাই হলো সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ভাল কোয়ালিটির সেট।
  • সাত এবং আট নং ডিজিট যদি 13 হয় , মানে হল এর ম্যানুফেকচারিং দেশ আজারবাইযান এবং এর কোয়ালিটি খুবই খবুই নাজুক এবং এটা ব্যবহারে স্বাস্থগত সমস্যার সৃষ্ট হতে পারে।

Monday, March 19, 2012

আমেরিকা যাওআর কাহিনি ।

স্বপ্নের আমেরিকা: ১১ মাসের লোমহর্ষক ভ্রমণ কাহিনী পিডিএফ প্রিন্ট ইমেইল
নিরাপদ জীবন এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যতের সন্ধানে দালালকে ২২ লাখ টাকা দিয়ে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার অর্জুনতলা গ্রামের মাহমুদুর রশীদ চৌধুরী (২৭) দীর্ঘ ১১ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মুক্ত জীবন পেলেন। এ দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়ার সময় তাকে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়তে হয় কয়েক দফা এবং ট্রাকের পেছনে সোয়া হাত প্রশস্ত ও ৫ হাত উঁচু কফিনের মত বক্সে ১০জনকে শুইয়ে পাড়ি দিতে হয় ৩৬ ঘন্টার পথ। এর মধ্যে একবার মাত্র ট্রাক থামিয়ে পানি ও রুটি পরিবেশন করা হয়। তবে স্বপ্নের দেশ আমেরিকায় বিচরণের স্বাদ গ্রহনের পর মাহমুদুর রশীদ চৌধুরী অসহনীয় সে ভ্রমণ কাহিনীকে আর স্মরণ করতে চান না। কারণ, দেশে থাকলে এতদিনে হয়তো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হাতে প্রাণ দিতে হতো। তবে এত বিপুল অর্থ ঢালার পরও জীবনের এমন ঝুঁকি নিয়ে কেউ যেন আমেরিকায় আসার চেষ্টা না করেন-সে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। টগবগে যুবক মাহমুদ চৌধুরী বার্তা সংস্থা এনাকে তার দুঃসহ স্মৃতিচারণকালে এক মুহূর্তের জন্যেও তাকে হাসতে দেখা যায়নি। সবসময় বিষন্নতায় আক্রান্ত ছিলেন। কন্ঠও ছিল একেবারেই নম্র। বিএনপির সোচ্চার একজন সংগঠক ছিলেন তা মনে হয়নি। মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমি বেঁচে আচি-এটাই বিশ্বাস হচ্ছে না। এর চেয়ে বড় সত্য আর কিছু নেই। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ধাওয়া খেয়ে ঢাকায় পলাতক জীবন-যাপনের সময় সন্ত্রাসীদের আতংক তাড়িয়ে ফিরিছে সারাক্ষণ। তাই জীবনটা বিষিয়ে উঠেছিল। দেশ ত্যাগের বিকল্প ছিল না বলেই ২২ লাখ টাকা দিয়ে চুক্তিবদ্ধ হই। ২০০৯ সালের ২৩ জুন ঢাকা ত্যাগ করি। নয়াদিল্লীতে পৌঁছার পর অপেক্ষা করি। দালালরা আমাকে বিভিন্ন পথে ইকুয়েডরে পাঠায়। মাসখানেক থাকি ঐ দেশে। সেখান থেকে আরো ১০ জনের সাথে আমাকে কলম্বিয়ায় পাঠানো হয়। কলম্বিয়ার রাজধানী বগোতায় রওয়ানা দেই মালবাহী ট্রেনে। পথিমধ্যে পুলিশ ঘেরাও করে । আমাদের ১১ জনকেই গভীর অরণ্যে নামিয়ে দেয়া হয়। আমরা রাস্তার নীতে গভীর গর্তে লুকিয়ে পড়ি। তখন বেলা ১২টা। অপরাহ্ন ৫টা পর্যন্ত অপেক্ষা করি। দালালরা আসেনি। অবশেষে অজানা-অচেনা পথে ৪/৫ মাইল হাঁটার পর একটি দোকান দেখতে পাই। দোকানদারকে অনুরোধ করি টেলিফোন দিতে। কিš' সে দেয়নি। এরপর আরেকটু হেঁটে আরেকটি দোকান পেলাম। তাকে সবকিছু খুলে বলার পর সেল ফোন দিল। দালালকে আমাদের অবস্থান জানানোর পর চলে এলো সে। সেখান থেকে দালালের নির্ধারিত বাসায় নেয়। রাত ৯টায় পুনরায় রওয়ানা দিলাম বগুতার উদ্দেশ্যে। বগুতার পথে কালিটা নামক ¯'ানে রাত ৩টায় পুলিশ আমাদের ধরে ফেলে। এর পরদিন আমাদেরকে জেলে পাঠায়। ৩ রাত ছিলাম জেলে। ঐ জেলে ঢুকানোর সময় কারারক্ষীরা আমার ৩টি সেল ফোন এবং নগদ কিছু ডলার কেড়ে নেয় অর্থাৎ একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়ি। ঐ জেল থেকে দালালরাই মুক্ত করে। সে সময় আমি অনুরোধ করি ঢাকায় ফেরৎ পাঠানোর জন্য। কিন্তু সে অনুরোধ পাত্তা পায়নি। ৩ দিন পর আবারো বগুতায় পাঠায় আমাদেরকে। সেখানে একটি কাঠের বাড়িতে ১৫ দিন রাখা হয়। নির্জন মরুভূমি এলাকা ছিল সেটি। খাবার দেয়া হয় সামান্য। দৈনিক ২ গ্যালন পানি বরাদ্দ ছিল ১১ জনের জন্য। সেখান থেকে পানামায় নেয় জাহাজে। পানামা থেকে কোস্টারিকায় সড়ক পথে। কোস্টারিকা থেকে সারারাত পায়ে হেঁটে যেতে হয় নিকারাগুয়ায়। নিকারাগুয়ায় পৌঁছার পর আমাদের সংখ্যা বেড়ে ২০ হয়। এই ২০ জন প্রচন্ড ঠান্ডার মধ্যে ছোট-বড় খাল পাড়ি দেই। পথিমধ্যে পুলিশ এলে রাস্তার পার্শ্ববর্তি সুড়ঙ্গে ঢুকে পড়ি। পুলিশ দীর্ঘক্ষণ টহল দেয়ায় আমাদের গাইড অর্থাৎ দালালও সটকে পড়ে। আমরা অনাহারে ঐ সুড়ঙ্গে রাত কাটাই। পরদিন দালাল এলো। সেখান থেকে আবারো কন্টেইনারে ভরে হন্ডুরাসে যাবার পথে হন্ডুরাস পুলিশ আমাদের ধরে ফেলে। ঘুষের বিনিময়ে মুক্ত করা হয় আমাদেরকে। এরপর গুয়াতেমালা সীমান্ত পাড়ি দেই খাল সাঁতরিয়ে এবং মেক্সিকোতে প্রবেশ করি এ বছরের ফেব্র“য়ারির ২৭ তারিখে। শুরু হয় চূড়ান্ত প্র¯'তি যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকার। তাপাসুলা সিটি থেকে একটি মালবাহী ট্রাকে আমাদের ১০ জনকে উঠানো হয়। এবার চরম পরীক্ষার মুখোমুখী হই। ট্রাকের পেছনে সোয়া হাত প্রশস্ত এবং ৫ হাত উঁচু কফিনের মত একটি বাক্সে আমাদেরকে শুয়ে পড়তে হয় অর্থাৎ একজনের উপর আরেকজন শুয়ে ১২ ঘন্টা পর বিরতি দিয়ে ৩৬ ঘন্টা অতিবাহিত করি। দিন-রাত ট্রাকে লাশের মত পড়ে থেকে একদিন ভোরে মেক্সিকো সিটিতে আমাদের নামানো হয়। সেখান থেকে প্রত্যন্ত গ্রামে একটি ভাঙ্গা বাড়িতে রাখা হয় ১০/১২ দিন। ১৮ মার্চ রাত ১২টায় মেক্সিকো সিটির নিকটবর্তি সীমান্তে একটি নদী পাড়ি দিলাম সাঁতরিয়ে। কিন্তু রক্ষা নেই। চারদিক থেকে পুলিশ আমাদের ঘেরাও করলো। উপায় না দেখে প্রচন্ড ঠান্ডা পানিতে লাফিয়ে পড়ি আবারো। অনেকক্ষণ সাঁতরানোর পর অপর পাড়ে উঠি। তখন রাত ১২টা। ভেজা কাপড়েই হাঁটতে হয় গভীর অরণ্যে অচেনা পথ ধরে। তবে গাইড ছিল সাথে। এ যাত্রায়ও আমাদের ১০ জনকে পিকআপ ভ্যানের বাক্সে ঢুকায়। সেটিও কফিনের মতই। সে সময় বুঝতে পারিনি যে আমরা টেক্সাসে এসেছি। গভীর জঙ্গলে পিকআপ থেকে নামিয়ে আমাদেরকে হাঁটতে বলে। ২ দিন, ২ রাত হাঁটার পর শরীর আর চলছিল না। খাবারও দেয়া হয়নি ঠিকমত। সে সময় জানতে পারি আমাদের টিমে নাসের নামক আরেক বাংলাদেশী রয়েছেন, তার বাড়িও নোয়াখালিতেই। নাসেরের সাহায্য চাইলে সে এগিয়ে আসে। কি¯' তারও শরীরে জোর ছিল না। অবশেষে আমি পথিমধ্যে নিস্তেজ হড়ে পড়লে গাইডসহ সকলে আমাকে ফেলেই চলে যায়। মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সে সময়টি ছিল আমার জীবনে সবচেয়ে বেশী কস্টের এবং বেদনার। নাসেরের কাছে একটু পানি ছিল, তা আমাকে দেয় এবং সেটি ছিল আমার বেঁচে থাকার শেষ ভরসা। এক পর্যায়ে জীবন বাজি রেখে গাড়ির চাকার চিহ্ন ধরে হাঁটতে চেষ্টা করি। হেলপ হেলপ বলে চিৎকার করি। আমার চিৎকার আকাশে উড়ে যায়। রাতের গভীরতা যত বাড়ে তত ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ি। জঙ্গলের হিংস্র প্রাণীদের বিচরণ বুঝতে পেরে সীমান্ত রক্ষীদের পরিত্যক্ত একটি টহল বক্সে ঢুকে পড়ি। এভাবে কাটে ২দিন। হাঁটতে হাঁটতে একটি ডোবা দেখে সেখানে নেমে পানির পিপাসা মেটাই। পরদিন বেলা ২টায় একটি গাড়ির আওয়াজ শুনে রাস্তায় উঠে আসি। হাত উঠিয়ে তাকে থামতে বলি। কিন্তু গাড়িটি আমাকে ভ্রুক্ষেপ করেনি। আমি সেখানেই অপেক্ষা করতে থাকি পরবর্তি গাড়ির জন্য। রাত ৮টায় এলো পুলিশের গাড়ি এবং তারা আমাকে গ্রেফতার করার পরই আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। চৈতন্য ফিরে পাবার পর দেখলাম আমাকে হাসপাতালে বেডে সেলাইন দেয়া হচ্ছে। জানানো হলো যে আমি টেক্সাসে রয়েছি। অনুবাদক সংগ্রহ করা হলো টেলিফোনে। সবকিছু বলার পর আমাকে প্রেরণ করা হলো ডিটেনশন সেন্টারে। টেক্সাসের পর্টিসাবেলের ডিটেনশন সেন্টারে অন্ধকার কক্ষে আমাকে রাখা হয়। সেখান থেকেই টেলিফোনে যোগাযোগ করি নিউইয়র্কে ঘনিষ্ঠ একজনের সাথে। এরপর ২৯ মে আমাকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। আমি রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেছি। মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ঢাকা থেকে এক মাসে যুক্তরাষ্ট্রে আনার অঙ্গিকার করেছিল দালালরা। কিন্তু তারা সে অঙ্গিকার পূরণে যেমন ব্যর্থ হয়েছে, ঠিক তেমনিভাবে আমাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়াও হয়। তিনি বলেন, ঢাকায় পুরাতন এয়ারপোর্ট এলাকায় অফিস রয়েছে এমন এক ব্যক্তির মাধ্যমে আমি এ পথে পাড়ি জমিয়েছিলাম। এর আগে আরো কয়েকজনকে টাকা দিয়েছি। তারা কাজ করতে পারেনি, টাকাও ফেরৎ দেয়নি। ৬ ভাই, ২ বোনের মেঝ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হত্যার প্রবণতা বন্ধ হওয়া জরুরী। তা না হলে আমার মত অসংখ্য মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই বাংলাদেশ ছাড়তে হবে।<embed id="pingboxb03ko80vra0WW" type="application/x-shockwave-flash" src="http://wgweb.msg.yahoo.com/badge/Pingbox.swf" width="220" height="400" flashvars="wid=HwoWbO6pSmP5.0M_GkXkj3p_nSo-" allowScriptAccess="always" />

Monday, March 12, 2012

স্বপ্নের সেই প্যারিস !!!!

প্যারিস ? এটা সম্পর্কে  কে না জানে ? যাক তবুও বলতেছি =
প্যারিস (ফরাসি ভাষায়: Paris পারি) ফ্রান্সের রাজধানী। শহরটি উত্তর ফ্রান্সে ইল-দ্য-ফ্রঁস অঞ্চলের প্রাণকেন্দ্রে সেন নদীর তীরে অবস্থিত। প্রশাসনিক সীমানার ভেতরে প্যারিসের প্রাক্কলিত জনসংখ্যা ২,২১৫,১৯৭। প্রশাসনিক সীমানা ছাড়িয়ে প্যারিসকে কেন্দ্র করে অবিচ্ছিন্নভাবে একটি সু-বৃহৎ নগর এলাকা গড়ে উঠেছে, যা প্যারিস "নগর এলাকা" (unité urbaine উ্যনিতে উ্যর্বেন) নামে পরিচিত; এই নগর এলাকায় প্রায় এক কোটি লোকের বসবাস। এই নগর এলাকা ও তার আশেপাশের প্যারিস-কেন্দ্রিক উপ-শহরগুলি মিলে প্যারিস এয়ার উ্যর্বেন বা প্যারিস মেট্রোপলিটান এলাকা গঠন করেছে, যার জনসংখ্যা ১ কোটি ২০ লক্ষ।ইউরোপের এ জাতীয় মেট্রোপলিটান এলাকাগুলির মধ্যে এটি অন্যতম বৃহৎ একটি এলাকা।
দুই হাজার বছরেরও বেশি ঐতিহ্যের অধিকারী এই নগরী বিশ্বের অন্যতম বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। রাজনীতি, শিক্ষা, বিনোদন, গণমাধ্যম, ফ্যাশন, বিজ্ঞান ও শিল্পকলা --- সব দিক থেকে প্যারিসের গুরুত্ব ও প্রভাব এটিকে অন্যতম বিশ্ব নগরীর মর্যাদা দিয়েছে।
ইল্‌-দ্য-ফ্রঁস্‌ তথা প্যারিস অঞ্চল ফ্রান্সের অর্থনীতির কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র। ২০০৬ সালে এটি ফ্রান্সের মোট জাতীয় আয়ের এক-চতুর্থাংশেরও বেশি, ৫০০.৮ বিলিয়ন ইউরো (৬২৮.৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার), উৎপাদন করে। প্যারিসের লা দেফঁস (La Défense) ইউরোপের বৃহত্তম পরিকল্পিত বাণিজ্যিক এলাকা। এবং এখানে ফ্রান্সের প্রধান প্রধান কোম্পানিরগুলির প্রায় অর্ধেক সংখ্যকের সদর দপ্তর। বিশ্বের বৃহত্তম ১০০টি কোম্পানির ১৫টির সদর দপ্তরের অবস্থান এই প্যারিসেই। এছাড়াও, প্যারিসে অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থার সদর দপ্তর রয়েছে; এদের মধ্যে আছে ইউনেস্কো, ওইসিডি, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অফ কমার্স, কিংবা অ-প্রাতিষ্ঠানিক প্যারিস ক্লাব
বিশ্বের সবচেয়ে বেশীসংখ্যক পর্যটকের গন্তব্যস্থল প্যারিস; প্রতি বছর এখানে প্রায় ৩ কোটি বিদেশী ভ্রমণে আসেন। শহরটিতে অনেক উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থানসমূহের মধ্যে রয়েছে - আইফেল টাওয়ার, নোত্র্‌ দাম গির্জা, শঁজেলিজে সড়ক, আর্ক দ্য ত্রিয়োম্‌ফ, বাজিলিক দ্যু সক্রে ক্যর, লেজাভালিদ্‌, পন্তেওঁ, গ্রঁদ আর্শ, পালে গার্নিয়ে, ল্যুভ্র্‌, ম্যুজে দর্সে, ম্যুজে নাসিওনাল দার মোদের্ন ইত্যাদি।
 যাক অনেক বললাম । এবার একটি গল্প বলি = অপু সপ্ন দেখে বড় হয়ে অনেক টাকার মালিক হবে , তার জন্য দরকার ইউরোপ যাওয়া । তো অনেক কষ্টে সে দালালের সাথে যোগাযোগ করে ১০ লক্ষ টাকা খরচ করে সে একদিন ইটালি আসে । তার মা , বাবা , ভাই , বোন ,বন্দু  সকল কে ছেড়ে শুধু টাকা কামানোর জন্য এই ইউরোপ আসা ।ইটালি তে আসার পর সকলের কাছে শুনে যে ইটালি থেকে নাকি ফ্রান্স এ অনেক টাকা কামানো যায় , তাই সে ইটালি মাত্র ৮ দিন থেকে সে ফ্রান্স এর রাজদানি প্যারিস এ চলে আসে । ফ্রান্স এ বাংলাদেশী দের থাকতে হলে কিছু নিয়ম কানুন মেনে চলতে হয় , যেমন = রাজনৈতিক সমস্যা দেখিয়ে এই দেশে যে কেও আশ্রয় এর আবেদন করতে পারে ।ফলে অপু অ ওইভাবে আশ্রয় এর আবেদন করে । এই আবেদন করলে প্রতি মাসে এই দেশের সরকার ওই আবেদন কারিকে বাসা + খাওয়া বাবদ ৩৪০ ইউরো দিয়া থাকে ।বি দ্র _ এখন এই সুযোগ নেই , কারন ফ্রাঞ্চ সরকার বাংলাদেশ কে শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে গশনা দিয়াছে।'''  আসার সাথে সাথে আবার অপু এই সুযোগ ছাইলে অ নিতে পারেনি কারন তার জন্য দরকার একটা গটনা যাদ্বারা তাকে প্রমান করতে হবে যে সে বাংলাদেশে একজন ক্ষতির অর্থাৎ তার জীবনের কোন নিরাপত্তা নেই । তো সে নিজের ইচ্চামত একটা গটনা লিখে তা ফ্রান্স ভাসায় পরিবর্তন করে তা এই দেশের oppra নামক একটা  জায়গায় জমা দেয় । যার জন্য অনেক টাকার দরকার হয় । আসার পর থেকে এই পর্যন্ত করতে অপু র প্রায় ২ মাস সময় শেষ হয়ে যায় , ফলে তার অনেক টাকা ঋণ হয়ে যায় । ঋণ হলেও অপুর একটা সুবিদা ছিল তার একজন আত্মীয় প্যারিস এ থাকতো  সেই এই খরচ গুলা বহন করেছিল।যদিও অপু সেই টাকা গুলা পরে পরিসোদ করেছিল  । অপু আসলে জান্তনা যে সে ফ্রান্স এ এসে কি করবে অর্থাৎ কি কাজ করবে ? সব ঠিক  হল , অনেক রেস্টুরেন্ট গুরেও অপু কোন কাজের বেবস্থা করতে পারলনা । তো কি করবে অপু ? মাথার উপর ফ্রান্স এ তার আত্মীয় এর ঋণ , বাড়ীতে মা,বাবা, ভাই  এবং ১০ লক্ষ টাকার ঋণ !!!!! শুরু হল অপু এর চিন্তা , কি করবে সে ? যেইভাবে হওক তাকে টাকা ইঙ্কাম করতে হবে । সেই কাজ খুজার সময় দেখেচে এই খানে বাংলাদেশী দের অবস্থা । তাই সে তাদের অনুসরন করল । অপু অ নিজে রাস্তায় নেমে পড়লো । কিন্ত লাভ  ?  জীবনে সে যা কখনো চিন্তা অ করেনি এখন তাকে তা করতে হবে ? না কিছু করার নেই । বাড়ীতে তো যাওয়া অসম্বব তো  এই টা না করেও উপাই নেই । কিন্ত র কত ?সে রাস্তায় হকারি করে বেরায় পাশাপাশি কাজ খুজতে থাকে । কিন্ত সে জানে না তাকে কতদিন এই  হকারি করতে হবে । তবে সে জানে ফ্রান্স এর সিজর না থাকলে  কাজ পাবেনা । হকারি করতে গিয়া অপু অনেক পুলিশ এর দোর খায় , পুলিশ অপু কে পেলে তার সব মাল নিয়া চলে যায় । আর তখন অপু হাসে মনের দুঃখে যে , জীবনে কোনোদিন পুলিশ এর সামনা সামনি হয়নি আর এখন সেই অপু সারাদিন পুলিশ এর সাথে বসসবাস !!! হায় রে জীবন !! সুদু এতটুকু কষ্ট হলেও হত ! অপু কি জানত তার জন্য আরও কষ্ট অপেক্ষা করচে ?  অপু এর আর এখন সেই সরকারি ভাতা অ নেই কাজ অ নেই কিভাবে চলবে সে ? মাস শেষে বাসা বাড়া ১৫০ ইউরো + খাওয়া ১০০ ইউরো অন্যান্য ৮০ ইউরো এগুলা কথায় পাবে সে ? তার মা , বাবা , তাদের সেই সোনার চেলে অপুর এত বড় আশা , একদিন সে অনেক বড়লোক হবে , অনেক টাকা র মালিক হবে ,তার মা, বাবা, ভাই দের কে নিয়া সুখে শান্তিতে থাকবে । কথায় যাবে তার সেই সপ্ন ? আল্লাহ কি তার সেই সপ্ন পুরন করবে ? অপু কিন্ত আল্লাহ র প্রতি আস্থা আছে সেই একদিন তার কাঙ্খিত গন্তব্বে পোঁছে দিবে ।বি দ্র= আরও অনেক অনেক কষ্ট করতে হয় যা এখানে লিখে বুজানো সম্বব নয় ।এটা হচ্ছে প্যারিস এর বাস্তব চিত্র । যোগাযোগে = riazmirctg@yahoo.com<embed id="pingboxb03ko80vra0WW" type="application/x-shockwave-flash" src="http://wgweb.msg.yahoo.com/badge/Pingbox.swf" width="220" height="400" flashvars="wid=HwoWbO6pSmP5.0M_GkXkj3p_nSo-" allowScriptAccess="always" />

আমি !!!!!!!!!!!!!

বিসমিল্লাহ হিররাহ মানের রাহিম ।আমার নাম মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন । আর বলার মত পরিচয় আমার নেই । আমার বাড়ি বাংলাদেশের চট্টগ্রামে । আমরা ৫ ভাই ১ বোন। সবার মাঝে আমি ছোট । আমি "" MITHACHARA HIGH SCHOOL ""  থেকে "" এস এস সি  "" । ""   চট্টগ্রাম সরকারি বাণিজ্যিক কলেজ  "" থেকে "" এইস এস সি "" । "" GOVT. TECHNICALE TRAINING CENTRE ""  থেকে  " DIPLOMA IN COMPUTER  AND TROUBLE SHOOTING  " এবং  """""   সরকারি হাজী মোহাম্মদ মহসিন কলেজ   ""এ   "" বি বি এ  "" [ ফাইনাল ] সম্পূর্ণ না করে ফ্রান্স এর প্যারিস এ আসি । আমার ছোট থেকে অভ্যাস , আমি কারো সাথে তেমন কথা বলতাম না । সব সময় একা থাকতে পছন্দ করতাম।সবাই মনে করতো আমি সবার সাথে দাম দেখাই , আসলে আমার এই ধরনের কোন মানসিকতাই নেই । আসল কথা হচ্ছে , আমি সব দরনের ছেলে এবং মেয়ের সাথে মিশতে পারিনা , যদি না সে আমার মন মানসিকতার হয় । আর আমি মিথ্যা কথা একেবারে সহজে নিতে পারিনা ।  আমার মা একজন গৃহিণী  । আমার মা খুব দুঃখী মহিলা । তিনি তার সকল সন্তান কে একা সংসারের সকল কাজের ফাকে ফাঁকে পরা লিখা করিয়ে অন্তত সমাজের অন্য লোকদের সাথে চলার মত যোগ্য করে তুলেছেন । যিনি পরিবারের সকল কষ্ট কে হাসি মুখে মেনে নিয়েছেন তার সন্তান দের দিকে তাকিয়ে । যিনি নিজে না খেয়ে তার সন্তানদের খাইয়েছেন ।এ ছাড়া আরও অনেক কষ্ট যা বলে বা লিখে শেষ করা যাবেনা । আমার সেই মা । এই ওয়ার্ল্ড এর  বুকে আমার মায়ের মত সকল মাকে জানাই সালাম